খেজুর আমাদের খুবই পরিচিত এবং প্রিয় ফল। রমজান মাসে বিশেষ করে ইফতারের সময় আমাদের সকলের পাতে খেজুর থাকেই। খেজুর দিয়েই আমরা অনেকে রোজা ভাঙি। খেজুর একটি ম্যাজিক ফ্রুট। প্রচুর পুষ্টিগুন সম্পন্ন একটি ফল।
খেজুরের পুষ্টি
- ৩০ গ্রাম পরিমাণ (দুই থেকে তিনটি) খেজুরে আছে ৯০ ক্যালোরি,
- ১ গ্রাম প্রোটিন,
- ১৩ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম,
- ২.৮ গ্রাম ফাইবার
- ১.৫ গ্রাম আয়রন
- ২০-২৫ মি.গ্রা. ম্যাগনেসিয়াম
- এছাড়াও আছে উল্লেখযোগ্য পরিমানে পটাশিয়াম, জিংক, এন্টি অক্সিডেন্ট, ভিটামিন বি কম্পলেক্স- বিশেষ করে বি১,বি২, বি৬।
- খেজুর আমাদের শরীরে এনার্জি দেয়। যারা এথলেট, নিয়মিত জিম করেন তারা খাদ্য তালিকায় খেজুর রাখতে পারেন।
- খেজুরের এন্টিওক্সিডেন্ট আমাদের ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে, বার্ধক্য প্রতিহত করে, হৃদরোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।
- খেজুর আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।
- এর ফাইবার আমাদের কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর করে, অন্ত্রের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে।
- আমাদের প্রতিদিনের আয়রনের একটা বড় অংশ পেতে পারি খেজুর থেকে। ফলে খেজুর আমাদের রক্ত উৎপাদনে ভূমিকা রাখে এবং এনিমিয়া প্রতিরোধ ও প্রতিকার করে।
- খেজুর আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।
- খেজুর একটি উচ্চ গ্লাইসেমিক সমৃদ্ধ ফল। খেজুর দীর্ঘসময় আমাদের শরীরে শর্করা সরবরাহ করে। তাই শুধু ইফতারেই নয়, সেহরীতেও দুই থেকে তিনটি খেজুর খেতে পারেন৷ তাতে রোজার সময় দিনের বেলা দীর্ঘ সময় আপনার শরীরে শক্তির যোগান দেবে, মস্তিষ্কও সচল থাকবে।
- তবে খেজুর কারো কারো জন্য ক্ষতিকরও হতে পারে। ডায়বেটিস রোগীরা খেজুর খাবেন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। রক্তে সুগারের মাত্রা এবং রোগীর সুগার নিয়ন্ত্রণের সামর্থ অনুযায়ী প্রতিদিন একটি পর্যন্ত খেজুর খাওয়া যেতে পারে৷
- উচ্চ মাত্রায় পটাশিয়াম থাকে বলে কিডনী রোগীরাও খেজুর খাওয়া থাকে বিরত থাকবেন।
- উচ্চ পুষ্টিগুন সম্পন্ন বলেই আবার যত খুশি খেজুর খাওয়া যাবেনা৷ একজন সুস্থ মানুষ প্রতিদিন তিন থেকে চারটি খেজুর খেতে পারেন। এর বেশি না খেলেই ভাল।
এই লেখকের সব লেখা পড়ুন নিচের লিংক থেকে।
www.royalbangla.com/gulzarhematologist
লেখক
ডাঃ গুলজার হোসেন
বিশেষজ্ঞ হেমাটোলজিস্ট
জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল
চেম্বারঃ
বি আর বি হাসপাতাল পান্থপথ, ঢাকা।
লেখকের সাথে যোগাযোগ করতে নিচের ফেসবুক পেইজে ক্লিক করুন
www.facebook.com/gulzarhematologist