- ১। পেশি ব্যাথা ও খিঁচ ধরাঃএ রোগের খুব পরিচিত লক্ষণ হলো পেশি ব্যাথা হওয়া ও খিঁচ ধরা। * ক্যালসিয়ামের ঘাটতির কারণে স্নায়ুতন্ত্রের পেশি সমুহ অধিক সংবেদনশীল হয়ে পড়ে, যে কারণে হঠাত পেশিতে টান পড়ে ও প্রচন্ড ব্যাথা অনুভূত হয়। * হাত ও পায়ের পেশির অসাড়তা এবং কুঁচকে যাওয়া অনুভূত হওয়াও একই কারণে হতে পারে। * এ ঘাটতির কারণে স্নায়ু দুর্বল হয়ে স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- ২। হাড় দুর্বলতাঃ হাড়ের গঠন ও শক্তি বৃদ্ধিতে ক্যালসিয়াম আবশ্যক। তাই এর ঘাটতিতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে। * হাড়ে অনাখাংখিত ব্যাথা ও ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে। * দীর্ঘদিন ঘাটতি চলতে থাকলে তা ব্যাক্তির উচ্চতা ও সর্বোপরি শারীরিক সামর্থ্যকে দুর্বল করে দেয়। তাই শিশুর বেড়ে ওঠার সময় সে প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম পাচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর রাখা উচিৎ। * শরীরে চাহিদা অনুযায়ী ক্যালসিয়াম না পেলে তা স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য হাড়ে জমা থাকা ক্যালসিয়াম ব্যবহার করে, যে কারণে হাড় আরও বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে।
- ৩। দুর্বল দাঁতঃ এ ধরনের সমস্যার লক্ষণ দাঁতেও দেখা দিতে পারে, কারণ দাঁতের অন্যতম গাঠনিক উপাদান হলো ক্যালসিয়াম। * শিশুর দাঁত দেরিতে ওঠা অথবা ক্ষত যুক্ত দাঁত ওঠা এ সমস্যার লক্ষণ। * পুর্ন বয়স্কদের ক্ষেত্রেও ঘন ঘন দাঁতের ক্ষত হওয়া বা অন্যান্য সমস্যা হলো ক্যালসিয়াম ঘাটতির লক্ষণ।
- ৪। ঘন ঘন অসুস্থতাঃ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, ব্যাক্টেরিরা, ভাইরাস বা ফাঙ্গাস জনিত আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য গুরুত্বপুর্ন উপাদান ক্যালসিয়াম। * যাদের ক্যালসিয়ামের ঘাটতি রয়েছে তারা খুব সহজেই ঠান্ডা গরম জনিত সমস্যা অথবা ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হয়। * ক্যালসিয়াম শরীরের অক্সিজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ফলে ব্যাক্টেরিয়া ও ফাঙ্গাস বিতাড়িত হয়। * শরীরের বিভিন্ন স্থানের ক্ষত পূরণ ও দ্রুত সেরে উঠতে সহায়তা করে এটি।
- ৫। অপিরিমিত ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাসঃ বয়স ও উচ্চতা অনুসারে পরিমিত ওজন থাকা সুস্বাস্থ্যের জন্য পরিহার্য। * কিন্তু যাদের শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে চর্বি ক্ষয় ও ওজন কমানো সম্ভব হয়না ফলে ডায়েট বা শরীর চর্চা কোন কাজে আসে না। * এছাড়াও পর্যাপ্ত ক্যালসিয়ামের অভাবে দ্রুত ওজন কমে যেতে পারে অস্বাভাবিক ভাবে।
- ৬। মাসিককালীন সমস্যা বৃদ্ধি পাওয়াঃ মানসিক অস্বস্তি, খাবারে অরুচি, বমিবমি ভাব অথবা তলপেটে প্রচন্ড ব্যাথা ইত্যাদি মাসিক কালীন সমস্যা বেড়ে যেতে পারে ক্যালসিয়ামের ঘাটতির কারণে। রজঃচক্র নিয়মিত রাখতে ও এ ধরনের সমস্যা মোকাবেলায় ক্যালসিয়াম খুবই দরকারী উপাদান।
- ৭। অনিদ্রাঃ রাতে ঘুম না হওয়া স্রাদিনের মানসিকতা ও কাজের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। অনিদ্রা খুব ভালো লক্ষণ নয়, অনেকগুলো কারণে তা হতে পারে এবং ক্যালসিয়ামের ঘাটতি তার মধ্যে একটি কারণ। * মেলাটনিন নামক হরমোনের উপাদান বৃদ্ধি করে ক্যালসিয়াম যা ঘুমের জন্য দায়ী। * এছাড়াও এটি শরীরের জেগে থাকা ও ঘুমের জৈবিক নিয়ম ঠিক রাখে।
- ৮। দুশ্চিন্তা ও দুর্বল স্মৃতি: * খুব দ্রুত ভুলে যাওয়া অত্যন্ত বাজে সমস্যা যা বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। ক্যালসিয়ামের অভাবের লক্ষণ হিসেবে এটি দেখা দিতে পারে। * এছাড়া সব সময় মন খারাপ থাকা বা দুশ্চিন্তা হওয়া এ রোগের লক্ষণ। ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত সমস্যাকে খুব হালকা ভাবে নেওয়া উচিৎ নয়। নিয়মিত প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা উচিৎ এবং উপরের যে কোন একটি লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের শরনাপন্ন হওয়া আবশ্যক।
![]() |
রয়াল বাংলা ডেস্ক |
কেমন করে বুঝবেন আপনার শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি আছে ? |
ক্যালসিয়াম |
- royalbangla.com এ আপনার লেখা বা মতামত বা পরামর্শ পাঠাতে পারেন এই এ্যড্রেসে [email protected]
পরবর্তী পোস্ট |
গর্ভাবস্থায় ভুলে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি (পিল) খেলে কী কোন সমস্যা হতে পারে? |