টুইন প্রেগন্যান্সি বা যমজ বেবির ডেলিভারি সাধারণ সিঙ্গলটন প্রেগন্যান্সির চেয়ে বেশি জটিল এবং সতর্কতার প্রয়োজন হয়। যমজ সন্তানের ডেলিভারি কীভাবে হবে (নরমাল নাকি সিজারিয়ান) তা নির্ভর করে বেশ কিছু বিষয়ের উপর, যেমন বাচ্চাদের অবস্থান, গর্ভকালীন বয়স, মায়ের স্বাস্থ্য ইত্যাদি।
নিচে টুইন ডেলিভারি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:-
টুইন প্রেগন্যান্সির ধরণ
১.ডাইকোরিয়নিক-ডাইঅ্যামনিওটিক (DCDA) টুইন
* প্রতিটি বাচ্চার আলাদা প্লাসেন্টা এবং অ্যামনিওটিক থলি থাকে।
* তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ।
২.মোনোকোরিয়নিক-ডাইঅ্যামনিওটিক (MCDA) টুইন
* দুটি বাচ্চা একটি প্লাসেন্টা শেয়ার করে, কিন্তু তাদের অ্যামনিওটিক থলি আলাদা।
* কিছু জটিলতা (যেমন Twin-twin transfusion syndrome) দেখা দিতে পারে।
৩.মোনোকোরিয়নিক-মোনোঅ্যামনিওটিক (MCMA) টুইন
* দুটি বাচ্চা একটি প্লাসেন্টা এবং একটি অ্যামনিওটিক থলি শেয়ার করে।
* খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, সাধারণত সিজারিয়ান ডেলিভারি প্রয়োজন হয়।
ডেলিভারির পদ্ধতি
১. নরমাল ডেলিভারি (Vaginal Delivery)
কখন সম্ভব:
* দুটি বাচ্চাই হেড ডাউন পজিশনে থাকে (ভার্টেক্স পজিশন)
* অন্য কোনো জটিলতা না থাকে (যেমন প্লাসেন্টা প্রিভিয়া, ফিটাল ডিসট্রেস)।
প্রক্রিয়া:
- প্রথম বাচ্চা নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে জন্ম নেয়।
- দ্বিতীয় বাচ্চার অবস্থান এবং স্বাস্থ্য মনিটর করা হয়। যদি অবস্থান পরিবর্তন হয়, তাহলে ফরসেপস বা ভ্যাকুয়ামের সাহায্যে ডেলিভারি বা সিজারিয়ান করা হতে পারে।
ঝুঁকি:
- দ্বিতীয় বাচ্চার জরুরি সিজারিয়ান প্রয়োজন হতে পারে।
- প্রসব পরবর্তী রক্তপাতের ঝুঁকি বেশি
২.সিজারিয়ান ডেলিভারি
কখন করতে হবে:
*প্রথম বাচ্চা ব্রীচ বা ট্রান্সভার্স পজিশনে থাকে।
*মোনোকোরিয়নিক-মোনোঅ্যামনিওটিক টুইন।
*প্লাসেন্টা প্রিভিয়া বা অন্য কোনো জটিলতা থাকে।
*আগে সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়ে থাকলে।
সুবিধা:
- নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ডেলিভারি, উভয় বাচ্চার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
ঝুঁকি:
- মায়ের রিকভারি সময় বেশি লাগে।
- সার্জারি সম্পর্কিত জটিলতা দেখা দিতে পারে।
সম্ভাব্য জটিলতা
1.প্রিম্যাচিউর ডেলিভারি যমজ সন্তান সাধারণত ৩৭ সপ্তাহের আগে জন্ম নেয়, যা শ্বাসকষ্ট, জন্ডিস বা NICU-তে ভর্তির ঝুঁকি বাড়ায়।
2.আম্বিলিকাল কর্ড প্রোল্যাপস বাচ্চা জন্মানোর আগেই আম্বিলিকাল কর্ড বেরিয়ে আসে, যা অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে।
3.প্লাসেন্টাল অ্যাবরাপশন প্লাসেন্টা জরায়ু থেকে আগেই আলাদা হয়ে যায়।
4.প্রসব পরবর্তী রক্তপাত
প্লাসেন্টা বড় হওয়ায় রক্তপাতের ঝুঁকি বেশি।
ডেলিভারির পর যত্ন
- যমজ সন্তানের মায়েরা বেশি ক্লান্তি এবং শারীরিক চাপ অনুভব করতে পারেন।
- প্রসব পরবর্তী রক্তপাত, ইনফেকশন এবং মানসিক স্বাস্থ্য (যেমন পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন) মনিটর করা প্রয়োজন।
- যমজ সন্তানের জন্য ব্রেস্টফিডিং বা ফর্মুলা ফিডিংয়ের বিশেষ যত্ন প্রয়োজন।
যমজ সন্তানের ডেলিভারি একটি বিশেষায়িত প্রক্রিয়া, তাই একজন অভিজ্ঞ প্রসূতি বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রসব পদ্ধতি ও কখন ডেলিভারির হবে সে ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আপনার চিকিৎসকের।
এই লেখকের সব লেখা পড়ুন নিচের লিংক থেকে।
www.royalbangla.com/Rumas-Ultrasound-109856337478413
লেখিকা
ডাঃ সরওয়াত আফরিনা আক্তার (রুমা)
MBBS,MSc(Australia),FCGP,CMU,DMU, Advanced Training on TVS,Fetal Echo,Anomaly Scan,Paediatric Ultrasound,Musculoskeletal Ultrasound, Duplex Doppler,Infertility & Gynae Ultrasound,From Dhaka,Mumbai, Channai, Delhi, Gujarat.
Consultant Sonologist
Aalok HeathCare Ltd
ঠিকানাঃ
আলোক হাসপাতাল লিমিটেড
বাড়ি নং - ০১, রোড নং - ০৫, ব্লক নং - এ, সেকশন- ৬, মিরপুর, ঢাকা ১২১৬।
(মিরপুর ১০ মেট্রো স্টেশনের পশ্চিম পাশে)
সময়ঃ
সকাল - ৮.০০ টা - ৩.০০ টা পর্যন্ত
বিকাল - ৬.০০ টা - রাত্র ১১.০০ পর্যন্ত
(শুক্রবার বিকাল বন্ধ)।
অনুসন্ধানঃ
09678822822, 01769969836.
Appointment এর জন্য
+8801892696007
+8801402801628
লেখকের সাথে যোগাযোগ করতে নিচের ফেসবুক পেইজে ক্লিক করুন
www.facebook.com/Rumas-Ultrasound-109856337478413